করোনায় কর্ম হারানো মানুষের পাশে , বিত্তবানদের দাঁড়ানোর আহ্বান, প্রধানমন্ত্রী

IMG_20200325_230700.jpg

নরসিংদী নিউজ২৪. কম ঃ ২৫ মার্চ ২০২০ মহামারী করোণা ভাইরাসের কারণে দেশে অনেক মানুষ কর্ম হারিয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বুধবার (২৫) মার্চ সন্ধ্যায় করোনাভাইরাস সম্পর্কিত বিষয়সহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন।
সরকার প্রধান বলেন, করুণা ভাইরাসের কারণে অনেক মানুষ কাজ কর্ম হারিয়েছেন। আমাদের কর্তব্য তাদের পাশে দাঁড়াতে । নিম্ন ব্যক্তিদের ‘ঘরে ফেরা’কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা দেয়া হবে । গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ছয় মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভাসানচরে ১ লাখ মানুষের থাকার ও কর্মস্থান উপযোগী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে কেউ যেতে চাইলেও সরকার ব্যবস্থা নেবে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, গরিব মানুষের মধ্য বিনামূল্য বিজিডি, বিজিএফ এবং ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে । একইভাবে বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবাও দেওয়া হচ্ছে।
আমি নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে আপনারা ইতিমধ্যেই জেনেছেন। তবু আমি কয়েকটি বিষয়ে কথা আবারও উল্লেখ করছি। দেশের সকল স্কুল, কলেজ ও কোচিং সেন্টার গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থগিত করা হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। সকল পর্যটন এবং বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যেকোনো রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ২৬ এ মার্চ থেকে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।
কাঁচা বাজার, খাবার ও ওষুধের দোকান এবং হাসপাতালসহ জরুরি সেবা কার্যক্রম চালু থাকবে। গত রাত থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন, নৌযান এবং অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখবে। ২৪ মার্চ এ থেকে বিভাগীয় ও জেলা শহর গুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বলবৎ হয়েছে।
এটি কার্যক্রম করতে জেলা প্রশাসককে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সহায়তা করছেন। আপনারা যে যেখানে আছেন, সেখানেই অবস্থান করুন।
করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ ৫০০ চিকিৎসকের তালিকা তৈরি করেছে । যারা জনগণকে সেবা দেবেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে গত ১৫ মার্চ সার্কভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান দের সঙ্গে আমি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে যুক্ত হই। এ রোগের প্রাদুর্ভাব রোদে আঞ্চলিকভাবে সম্মিলিত প্রয়াস নেওয়ার জন্য আমি সার্কভুক্ত দেশসমূহের নেতাদের উদাত্ত আহ্বান জানাই।সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গুলো প্রস্তাবিত সুপারিশমালা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করছে। আমরা একটি যৌথ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এতে বাংলাদেশ ১৫ লাখ ডলার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
‘যুগে যুগে জাতীয় জীবনে নানা সংকটময় মুহুর্ত আসে । জনগণের সম্মিলিত শক্তির বলেই সেসব দুর্যোগ থেকে মানুষ পরিত্রান পেয়েছে। ইতিমধ্য প্লেগ, গুটি বসন্ত, কলেরার মত মহামারী মানুষ প্রতিরোধ করেছে। তবে ওইসব মহামারী সময় বিশ্ব এখনকার মতো ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত ছিল না।এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ তখন এক দেশ থেকে অন্য দেশে বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করত না। এ কারণে করোনা ভাইরাস দ্রুততম সময়ে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও প্রগতির সাধিত হয়েছে।সবাই মিলে সম্মিলিত চেষ্টা চালানো নিশ্চয়ই বিশ্ববাসী এ দুর্যোগ থেকে দ্রুত পরিত্রাণ পাবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’ র কন্যা বলেন , এই সংকটময় সময়ে আমাদের সহনশীল এবং সংবেদনশীল হতে হবে। কেউ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। বাজারে কোন পণ্যের ঘাটতি নেই। দেশের অভ্যন্তরে এবং বাহিরের সঙ্গে সরবরাহ চেইন অটুট রয়েছে। অযৌক্তিকভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়াবেন না। জনগণের দুর্ভোগ বাড়াবেন না। সকল জেলা ও উপজেলায় বাজার মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আমাকে শেয়ার করুন

PinIt
scroll to top