রায়পুরার মল্লিকপুরে তিনজনকে কুপিয়ে জখম থানায় মামলা দায়ের ॥ জামিন নিয়ে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি

IMG_20200212_220332.jpg

স্টাফ রিপোর্টার/নরসিংদী নিইজ ২৪/
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাত অনুমান ৮টার দিকে ৩জনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার খবর পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় গত ৬ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত ৬জনের বিরুদ্ধে রায়পুরা থানায় মামলা দায়ের করেছেন একই এলাকার মৃত ওয়ারিস আলী মোল্লার ছেলে হাসিম মোল্লা। মামলার বিবরণে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তার করার লক্ষ্যে মল্লিকপুরের কাইয়ুম (২৪), সায়েম (২৩), এনামুল (২২), পারভেজ রহমান নিলয় (২৪), সাজ্জাদ হোসেন (১৯) ও সজিব মিয়া ৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাত ৮টার দিকে একই এলাকার হাসি মোল্লার পুত্র মো. শরিফুল ইসলাম, ভাতিজা জাকির মোল্লা ও নাতি রিপন মোল্লার মোটর সাইকেল গতিরোধ করে চাপাতি, কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে এলোপাথারি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় হামলাকারীরা মো. শরিফুল ইসলামের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও রিপন মোল্লার কাছে থাকা অর্ধলক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। রক্তাক্ত গুরুতর আহতবস্থায় হামলাকারীদের চিনতে পারে শরিফুল ইসলামসহ তার সঙ্গীয়রা। হামলাকারীদের চিনতে পাড়ায় হলো কাল। এতে করে হামলাকারীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের উপর কিল, ঘুষি মারতে থাকে। এ সময় তাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন আসতে থাকে। লোকজনের উপস্থিতি দেখে হামলাকারীরা তাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়। গুরুত্বর আহতবস্থায় মো. শরিফুল ইসলাম, জাকির মোল্লা ও রিপন মোল্লাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে জাকির মোল্লা ও রিপন মোল্লা বাড়িতে ফিরলেও এ রিপোর্ট লেখা সময় (গতকাল বুধবার) পর্যন্ত মো. শরিফুল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছে শরিফুল ইসলামের মাথায় এবং ঘাড়ে গুরুত্বর জখম হয়েছে। তাই সুস্থ হতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।
মামলার বাদী হাসিম মোল্লা জানান, হামলাকীরার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও উশৃঙ্খল। এছাড়া তারা মাদকের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর তারা গতকাল বুধবার নরসিংদী আদালত থেকে আগাম জামিনে ৪জন বেড়িয়ে এসে পুনরায় কুপিয়ে জখম করার হুমকি দিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের হুমকি-ধমকিতে আমরা তটস্থ। তারা যে কোন সময় আমার বাড়ি-ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলতে পারে। এছাড়া হামলাকারীদের মূল হুকুমদাতা গডফাদার বাংলাদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর একই গ্রামের আবু ছায়েদ মিয়ার পুত্র আশরাফুল ইসলাম মোহনের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আমাকে শেয়ার করুন

PinIt
scroll to top